২৮৩জন করোনা আক্রান্ত রোগী নিখোঁজ
চট্টগ্রামে হদিস পাওয়া যাচ্ছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ২৮৩ জন রোগীর। তবে ভবিষ্যতে এই ধরনের ঝামেলা এড়াতে নমুনা নেয়ার সময় রোগীর সঠিক নাম-ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর লিপিবদ্ধ করা এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ফটোকপি সংগ্রহের তাগিদ দিয়ে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালককে চিঠি দিয়েছে সিএমপি।
ওই চিঠিতে স্বাস্থ্য পরিচালকে সিএমপির উপ-কমিশনার (বিশেষ শাখা) বিশেষ নোট দিয়েছেন। তাতে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ চট্টগ্রাম মহানগরীর করোনাভাইরাস পরীক্ষার বিভিন্ন ল্যাব থেকে প্রকাশিত রেজাল্ট সংগ্রহ করে পজিটিভ শনাক্ত হওয়া ব্যক্তির কোয়ারেন্টিন ও বাসা লকডাউন নিশ্চিত করছে। পাশাপাশি তার সঙ্গে ঘনিষ্টভাবে সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদেরও কোয়ারেন্টিন নিশ্চিতে কাজ করে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখছে। এদিকে করোনাভাইরাস পজিটিভ ২৮৩ জন রোগীদের হদিস না পাওয়ায় কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা ও বাসা লকডাউন করতে গিয়ে বিপাকে পড়ছে পুলিশ।
জানা গেছে, চট্টগ্রামের ল্যাবসমূহ যথাক্রমে, বিআইটিআইডি, ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল, চমেক হাসপাতাল, সিভাসু ও চবির ল্যাবে নমুনা দেয়ার সময় পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা দিচ্ছেন এসব রোগীরা। কোন কোন সময় শুধুমাত্র মোবাইল নম্বর দিলেও তা বন্ধ থাকে বা ভুল থাকে। আবার কোন নম্বর ধরলেও ঠিকানা দিতে চান না আবার অনেকে ফোনই রিসিভ করেন না। তাই পজিটিভ শনাক্ত হওয়া ব্যক্তির কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত ও পাশাপাশি তার সঙ্গে ঘনিষ্টভাবে সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদেরও কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। এই সুযোগে তারাই করোনাভাইরাসে মানুষকে সংক্রমিত করছেন। গত ১৬ জুন পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগরে ৩৮৩৪ জন করোনা রোগীর মধ্যে ২৮৩ জনের কোন হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থায় নমুনা সংগ্রহের ক্ষেত্রে একাধিক মোবাইল নম্বর সংযুক্ত করার পাশাপাশি জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি জমা দেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সিএমপির উপ-কমিশনার (বিশেষ শাখা) মো. আবদুল ওয়ারিশ বলেন, গত ১৬ জুন পর্যন্ত ২৮৩ জন করোনা পজিটিভ রোগীর কোন ঠিকানা কিংবা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। শুধু মাত্র অপূর্ণাঙ্গ ঠিকানা ভুল মোবাইল নম্বরের কারণে। অনেক রোগীই তাদের ঠিকানা ভুল দিচ্ছেন। অনেকে অসম্পূর্ণ দিচ্ছেন। অনেকের মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। কেউ কেউ শুধু ঠিকানা দিচ্ছেন। তবে সেই ঠিকানা ধরে তাদের শনাক্তও করা যাচ্ছে না। এজন্য তাদের বাসস্থান আমরা লকডাউন করতে পারছি না। রোগী এবং তাদের সংস্পর্শে আসাদের কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করাও যাচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, মূলত এ কাজটি হচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগের। কিন্তু নগরীতে আমাদেরই করতে হচ্ছে। কাজ করতে গিয়েই বিড়ম্বনায় পড়ছি। তাই এ জন্য আমরা নাম-ঠিকানা ও মোবাইল নম্বরের সঙ্গে এনআইডি কার্ডের ফটোকপি নেয়ার অনুরোধ করেছি। শুনেছি সিটি করপোরেশনের বুথগুলোতে এখন যথাযথ প্রক্রিয়া মানা হচ্ছে তবে এটা সব ল্যাবেই করতে হবে। না হয় করোনার সংক্রমণ ঠেকানো সম্ভব না।
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মোস্তফা খালেদ আহমেদ বলেন, সিএমপির পক্ষ থেকে এখন নমুনা নেয়া ব্যক্তিদের যেসব তথ্য নিতে বলা হয়েছে আমরা সব ল্যাবকে সেভাবেই নির্দেশনা দিব। যাতে রোগীরা সঠিক নাম-ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর দিয়ে ফরম পূরণ করেন।